বেশিরভাগ পর্যটক কাঠমান্ডুতে উড়ে আসেন, তবে পোখরা বা ভৈরহওয়াতেও উড়ে আসা যায়, কিংবা ভারত থেকে স্থলপথে আসা যায়। প্রতিটি পথ কীভাবে কাজ করে তা এখানে দেওয়া হলো, যাতে আপনার সুবিধামতো বেছে নিতে পারেন।
বর্তমান নোটিশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬-এর বন্যায় নেপাল–চীন সীমান্তের রসুয়া জেলা এবং সেইসঙ্গে গোর্খা, নুয়াকোট ও ধাদিং ক্ষতিগ্রস্ত হয় (যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর)। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত কানাডা রসুয়া ও নুয়াকোটে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিচ্ছে। তিব্বত থেকে স্থলপথে আসার পরিকল্পনা থাকলে আগে সর্বশেষ খবর দেখে নিন।
জরুরি কথা
কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরই নেপালে ঢোকার প্রধান পথ, যেখানে দিল্লি, উপসাগরীয় দেশগুলো, ব্যাংকক ও আরও নানা জায়গা থেকে ফ্লাইট আসে।
পোখরায় দুবাই থেকে flydubai-এর প্রতিদিনের ফ্লাইট আছে, যা ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে চলছে।
কাঠমান্ডু বিমানবন্দরে এবং ভারতের সঙ্গে কয়েকটি স্থলসীমান্তে আগমনে ভিসা পাওয়া যায়।
বিদেশিরা রক্সৌল–সিরসিয়া ট্রেনে সীমান্ত পার হতে পারেন না; এটি কেবল ভারতীয় নাগরিকদের জন্য।
ভারতীয় নাগরিকদের ভিসা লাগে না, তবে সঠিক পরিচয়পত্র লাগে।
নেপাল আর ভুটানের মধ্যে কোনো অভিন্ন সীমান্ত নেই, তাই স্থলপথে ভারত হয়ে যেতে হয়।
আকাশপথে
কাঠমান্ডুতে দিল্লি, দুবাই, শারজাহ, আবুধাবি, দোহা, ইস্তানবুল, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, সিঙ্গাপুর, হংকং, সিউল (ইনচন), ঢাকা, কলম্বো, মাস্কাট, কুয়েত এবং চীনের কয়েকটি শহর থেকে ফ্লাইট আসে।
বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক ফ্লাইট আসে দিল্লি, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও ব্যাংকক থেকে। Buddha Air কলকাতা ও বারাণসী থেকেও ফ্লাইট চালায়।
ভৈরহওয়ার গৌতম বুদ্ধ বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট কখনো চলেছে, কখনো বন্ধ থেকেছে। Thai AirAsia ২৬ অক্টোবর ২০২৫-এ সপ্তাহে দুবারের ফ্লাইট আবার চালু করেছিল, তাই সেগুলো এখনও চলছে কি না দয়া করে দেখে নিন।
ভারত থেকে স্থলপথে
প্রধান সীমান্ত পারাপারগুলো হলো সুনৌলি–ভৈরহওয়া (বারাণসী বা গোরখপুর থেকে), রক্সৌল–বীরগঞ্জ (পাটনা বা কলকাতা থেকে), পানিট্যাঙ্কি–কাকরভিটা (শিলিগুড়ি বা দার্জিলিং থেকে), রূপাইডিহা–নেপালগঞ্জ (লখনউ থেকে) এবং বনবাসা–মহেন্দ্রনগর (দিল্লি থেকে)।
সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (৬ নভেম্বর ২০২৫) অনুযায়ী কাকরভিটা, বীরগঞ্জ, ভৈরহওয়া (বেলহিয়া), নেপালগঞ্জ ও গড্ডাচৌকিতে আগমনে ভিসা পাওয়া যায়। বিরাটনগরে পাওয়া যায় কি না আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি, তাই ওই পথে যাওয়ার আগে খোঁজ নিয়ে নিন।
সুনৌলি গোরখপুর থেকে প্রায় ৭০ কিমি দূরে, জিপে প্রায় ২–৩ ঘণ্টা, ভাড়া প্রায় ₹১০০। সেখান থেকে বাসে কাঠমান্ডু যেতে ৯–১৪ ঘণ্টা এবং পোখরা যেতে ৫–৬ ঘণ্টা লাগে।
Wikivoyage-এর পরামর্শ, সুনৌলিতে দিনের আলোয় সীমান্ত পার হোন এবং সীমান্ত শহরে ভ্রমণসংক্রান্ত কোনো সেবা কিনবেন না।
কাকরভিটা শিলিগুড়ি থেকে জিপ বা মিনিবাসে প্রায় এক ঘণ্টার পথ; সেখান থেকে কাঠমান্ডুর বাসে প্রায় ১৬ ঘণ্টা লাগে। বীরগঞ্জ থেকে কাঠমান্ডুর বাস ছাড়ে সকাল ৬–১০টা এবং রাত ৭–১০টার মধ্যে।
দিল্লি থেকে কাঠমান্ডু বাসে ২৫–২৮ ঘণ্টা লাগে।
ভুটান থেকে
পারো থেকে Drukair বা Bhutan Airlines-এ কাঠমান্ডু উড়ে আসতে পারেন।
স্থলপথে ফুন্টশোলিং থেকে ভারতের জয়গাঁওয়ে ঢুকুন, বাসে শিলিগুড়ি যান (প্রায় ৪ ঘণ্টা), তারপর কাকরভিটার দিকে এগোন।
আপনি ভারতীয় না হলে মনে রাখবেন, আপনি ভারতের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন, তাই জয়গাঁওয়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশনের সিল নিতে ভুলবেন না।
ভারতীয় নাগরিক
দুই দেশের ১৯৫০ সালের চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় নাগরিকদের নেপালে যেতে ভিসা লাগে না।
ফ্লাইটের জন্য কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস (নভেম্বর ২০২৬) বৈধ ভারতীয় পাসপোর্ট অথবা ছবিসহ নির্বাচন কমিশনের আসল ভোটার কার্ড গ্রহণ করে। আধার, প্যান, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা প্রিন্টআউট গ্রহণ করা হয় না।
উৎসগুলো একমত নয়: নেপাল পর্যটন বোর্ড প্যান, ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেশন কার্ড (৬৫ বছর ও তার বেশি) এবং স্কুলের পরিচয়পত্রও (১৮ বছরের কম) তালিকায় রেখেছে, সম্ভবত স্থলসীমান্তের জন্য। নিশ্চিন্ত থাকতে পাসপোর্ট বা ভোটার কার্ড সঙ্গে রাখুন।
উল্লিখিত উৎস থেকে সাধারণ নির্দেশনা, কোনো নিশ্চয়তা নয়। নিয়ম, ফি ও পথের অবস্থা বদলায়; যাওয়ার আগে সরকারি উৎস বা নিবন্ধিত ট্রেকিং এজেন্সির কাছে নিশ্চিত হোন।